সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
আইনজীবী হতে চান? সিআরপিসি নিয়ে এই পরামর্শ না পড়লে ভুল করবেন
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির লিখিত পরীক্ষা হবে ২৮ জুন। এই পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ বা সিআরপিসি। অনেকের কাছেই এই অংশটা কিছুটা ভয়ের নাম। কিন্তু সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিলে এই ভয় সহজেই জয় করা যায়। আজকের এই শেষ পর্বে থাকছে সিআরপিসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারা, কাঠামো ও পরীক্ষায় নম্বর ওঠানোর কার্যকরী কৌশল নিয়ে বাস্তবমুখী আলোচনা।
পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকার জজ কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী রিয়াজুর রহমান।
পরীক্ষায় ফৌজদারি কার্যবিধি থেকে দুটি প্রশ্ন থাকে, যার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে উত্তর দিতে হয়। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১৫ নম্বর। প্রশ্ন হতে পারে রচনামূলক, সমস্যামূলক বা টিকাভিত্তিক।
ফৌজদারি কার্যবিধি মূলত একটি কাঠামোগত আইন, যা ফৌজদারি বিচারের প্রক্রিয়া, আদালতের শ্রেণিবিন্যাস এবং এখতিয়ার নির্ধারণ করে। এটি শুধু পরীক্ষায় নয়, আইনজীবী হিসেবে ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনের জন্যও অত্যন্ত কার্যকরী। তাই মুখস্থ নয়, বিষয়টি বুঝে পড়াই এখানে সাফল্যের চাবিকাঠি।
আইনটি দীর্ঘ ও জটিল। তাই সব ধারা একসাথে মুখস্থ করতে যাওয়া ভুল। বরং যেসব ধারা থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে, সেগুলো আগে আয়ত্ত করতে হবে। যেমন:
এছাড়া তল্লাশি, নারাজি, ফাইনাল রিপোর্ট, অধিকতর তদন্ত, আসামির ব্যক্তিগত হাজিরা, সংক্ষিপ্ত বিচার ও চার্জ সংশোধন সম্পর্কিত বিষয়গুলোও শর্ট নোট বা টিকাভিত্তিক প্রশ্নে আসতে পারে।
এই দুটি অংশ শুধু ধারা পড়লেই হবে না। এগুলোর সঙ্গে তামাদি আইনের সম্পর্কও বুঝতে হবে। কারণ পরীক্ষায় কৌশলীভাবে প্রশ্ন তৈরি হয় যেখানে আপিল বা রিভিশনের সময়সীমা কিংবা কার্যকারিতা মিলিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।
আইইএলটিএস-এ যেমন রিডিং কঠিন, তেমনি বার কাউন্সিল পরীক্ষায় জামিন অংশে সবাই হোঁচট খায়। জামিন কবে দেওয়া হয়, কবে নয়, কী শর্তে দেওয়া হয়, সবই পড়তে হবে। সঙ্গে চাই কেস রেফারেন্স ও বাস্তব উদাহরণ।
সমস্যামূলক প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে একটি নির্দিষ্ট ফরমেটে:
রচনামূলক প্রশ্নের উত্তর লেখা উচিত বুলেট পয়েন্টে, যেখানে প্রতিটি পয়েন্ট হবে সুসংগঠিত ও ধারাবাহিক।
ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে সঠিক ধারা, কেস রেফারেন্স এবং যুক্তিসম্মত উদাহরণ। এতে আপনার উত্তর হবে প্রামাণ্য ও নম্বরপ্রাপ্তির জন্য আদর্শ।
সিআরপিসি শুধু মুখস্থ করলেই চলবে না, বুঝে এবং প্রয়োগযোগ্যভাবে পড়তে হবে। পরীক্ষায় সময়ের মধ্যে স্পষ্টভাবে গুছিয়ে লেখা মানে শুধু ভালো নম্বরই নয়, পেশাগত জীবনের আত্মবিশ্বাসও তৈরি করে। তাই আজ থেকেই শুরু হোক ধারাভিত্তিক প্রস্তুতি—পরীক্ষা পেরিয়ে আদালতের আসনে বসার দৌড়ে এগিয়ে থাকার পথ এখান থেকেই।